ডিসিসিআইয়ের মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ীরা

ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে প্রয়োজন নিরাপদ পরিবেশ

দেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিরাপদ ও সহায়ক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত না হলে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ হবে না।

দেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিরাপদ ও সহায়ক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত না হলে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ হবে না।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় গতকাল এ কথা বলেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। ‘ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণে উন্নত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার অত্যাবশ্যকীয়তা’ শীর্ষক এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

সভায় ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, ‘বর্তমানে ব্যবসায়িক পরিবেশ চাঁদাবাজি, অনলাইন প্রতারণা, পরিবহন ঝুঁকি, প্রতারণামূলক কার্যক্রম এবং সাইবার হুমকির মতো সমস্যায় জর্জরিত। এতে শুধু ব্যবসা পরিচালনাই বিঘ্নিত হচ্ছে না, বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে এবং উদ্যোক্তাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা নষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক ও স্পষ্ট প্রত্যাশা নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং নির্বিঘ্নভাবে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করা।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমাদের প্রাধান্য পাওয়া উচিত এমন একটি সমন্বিত নীতিমালা ও অ্যাকশনের যেখানে ব্যবসা-সংক্রান্ত আইন-শৃঙ্খলা বিষয়গুলো হবে বিশেষভাবে সেনসিটিভ ও সহায়ক। ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের টেকসই অগ্রগতির জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নগর প্রশাসনের সঙ্গে ব্যবসায়ী সমাজের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা অত্যন্ত প্রয়োজন।’

সভায় ডিসিসিআইয়ের সাবেক ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি আবদুস সালাম বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা ছিল, বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না। বরং পরিস্থিতি দিনকে দিন আরো খারাপ হচ্ছে।’

ডিসিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি এম আবু হোরায়রাহ ঢাকা দক্ষিণ এলাকায় পার্কিং সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি দক্ষিণের ট্রাফিক বিভাগের অফিস শান্তিনগর থেকে গুলিস্তানে স্থানান্তরের সুপারিশ করেন।

বাংলাদেশ ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মওলা বলেন, ‘রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও আইন-শৃঙ্খলায় কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি। স্থলবন্দরে পণ্য পরিবহনে দালালনির্ভরতা ও ট্রাকস্ট্যান্ডে বিশৃঙ্খলায় ব্যবসায়িক ব্যয় বেড়েছে।’

চিনির ওপর অতিরিক্ত কর প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজি মো. আবুল হাসেম বলেন, ‘সরকারি ১৪টি চিনিকলের মধ্যে মাত্র ২ শতাংশের চাহিদা পূরণ হয়।’ অন্তত দুটি চিনিকল সারা বছর চালু রাখার প্রস্তাব দেন তিনি।

সভায় মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজি সৈয়দ মোহাম্মদ বশির উদ্দিন বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা এখনো সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন না।’

বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি নেসার উদ্দিন খান জানান, কিশোর গ্যাংয়ের নৈরাজ্যে জনজীবনের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এসব অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করেন তিনি।

সভায় বাংলাদেশ মনিহারি বণিক সমিতির সহসভাপতি হাজি ফয়েজউদ্দিন বলেন, ‘বিভিন্ন আন্দোলনের কারণে পুরান ঢাকায় পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। চকবাজার ও মৌলভীবাজারে কোনো ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় প্রতিনিয়ত অসহনীয় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।’ এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

সভায় মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি লুৎফুর রহমান বাবু বলেন, ‘মোহাম্মদপুরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হচ্ছে, এক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।’

সভায় ধামরাই ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, ঢাকা শহরের আশপাশে ৩৭০টি ইটভাটা থাকলেও লাইসেন্স নবায়নে দীর্ঘসূত্রতার কারণে এ খাতের উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধান করার দাবি জানান তিনি।

সভায় ডিসিসিআই পরিচালক এনামুল হক পাটোয়ারী আইন-শৃঙ্খলাসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় সভা আহ্বান, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ফুটপাতে ভাসমান দোকান ও হকার উচ্ছেদের প্রস্তাব করেন।

বর্তমানে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে সভায় দাবি করেন মতিঝিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মহায়মেনুল ইসলাম। তবে এখনো বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য তা উপযুক্ত নয় বলেও তিনি স্বীকার করেন। পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলাসংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তবে জনগণের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া পুলিশ একা সফল হতে পারবে না।’

সভায় ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহসভাপতি মো. সালিম সোলায়মান এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও